তৌহীদের পাঠশালা প্রসঙ্গে -
আমার পরম গুরু দয়াল মুরশীদ হযরত ফকির কাশেম আলী চিশতী কাদ্দাসাল্লাহু সের্রূহু
আমাকে ডেকে বললেন, ‘আরিফ, তোমারে যদি কেউ জিগায় তৌহীদের পাঠশালা কি? তুমি কি কইবা?’
নিজেই আবার বলতে লাগলেন, ‘কইবা- দেহে আছে পাঁচটা শালা। দুই চোখ, দুই কান, আর মুখ।
পঞ্চ আত্মা। - রূহ আবাদি, রূহ যাবাদি, রূহ হায়ানী, রূহ ইনসানি, রূহের নাম রহমানী।’
‘দেহে আছে পাঁচটা শালা, তারে বাধ্য করতে হইলে যাইতে হইবো তৌহীদের পাঠশালা।
একটা দেহ-ই একটা তৌহীদের পাঠশালা। গুরু কোন মানুষ না, গুরু হইলো জ্ঞান।
বাইরে আছে শিক্ষাগুরু, আর ভেতরে আছে দীক্ষাগুরু। শিক্ষাগুরু থেইক্যা শিক্ষা নিয়া ভেতরে দীক্ষা
গুরুরে জাগাইয়া তুলতে অইবো।’ ‘গুরু অইলো জ্ঞান। ভক্ত অইলো চোখ, কান, নাক, মুখ, হাত,
পা, লিঙ্গ, গুহ্য।’ ‘এক কানে মায়ের কথা শুনছি, আরেক কানে ভাইয়ের কথা শুনছি আর মুখ দিয়া
আরেক কথা কইছি - এইডা অইলো ফাসেকি। কোটি বছর ইবাদত করলেও লাভ নাই।
যা দেখছি, যা শুনছি,
যা বলবো - জ্ঞানের আশ্রয়ে বলবো। এক জবানে আউলিয়া। তৌহীদ করা মানে এক করা, একাত্ম হওয়া।
‘একটা ধর্ম হইলো টেকনিকেল, আরেক ধর্ম হইলো প্র্যাকটিকেল।’ তিনি দৃঢ়তার সাথে বলতেন,
‘সব কিছু এক্সজামিন কইরা দেখতে অয়।’
তাই তিনি সাধকদের তাদের দেহের সাথে ষড়রিপু, মন, আত্মা, পরমাত্মা তথা এক কেন্দ্রিক সমগ্রতাকে
মিলিয়ে দেখতে বলতেন। তিনি বলতেন, ‘যা আছে বিশ্ব ব্রম্মান্ডে, তা আছে এই দেহ ভান্ডে।
তারচেয়েও একটা বেশী আছে- তৌহীদ। মালিক স্বয়ং এখানে আছেন।’ অতএব, ‘তৌহীদ কর।’